৪০টি হাদিসের জ্ঞান

৪০টি হাদিসের জ্ঞান যে আত্মস্থ ও সংরক্ষণ করবে, মহাবিচার দিবসে একজন জ্ঞানী হিসেবে তার পুনরুত্থান হবে এবং আমি [নবীজী (স)] তার শাফায়াতকারী হবো।—আবুদারদা (রা); মেশকাত। 

নিয়ত

১.
নিয়ত সকল কর্মের অঙ্কুর। প্রত্যেকের কর্মের মূল্যায়ন করা হবে তার নিয়ত বা অভিপ্রায় অনুসারে। কেউ যদি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সন্তুষ্টির জন্যে হিজরত করে, তবে সে সেভাবেই মূল্যায়িত হবে। আর যদি কেউ পার্থিব ধনসম্পত্তি বা কোনো নারীকে পাওয়ার জন্যে হিজরত করে, তবে তার মূল্যায়নও সেভাবেই হবে।
[হিজরত অর্থ দেশত্যাগ। দেশত্যাগী বা শরণার্থীর জীবনে কষ্ট অনেক। অর্থাৎ দুনিয়া হোক বা আখেরাত, একজন মানুষ যে উদ্দেশ্যে কষ্টস্বীকার করছে, মূল্যায়নটা হবে সেভাবেই। কষ্ট করার উদ্দেশ্যটাই গুরুত্বপূর্ণ। উম্মে কায়েস নামে এক কুমারীকে বিয়ে করার জন্যে মক্কা থেকে এক যুবক মদিনায় এলে নবীজী (স) একথা বলেন।]             
—ওমর ইবনে খাত্তাব (রা); বোখারী, মুসলিম

২.
প্রতিটি সকালই মানুষের সামনে একটি ক্রান্তিকাল। দুটি পথ তার সামনে থাকে। (যখন সে মহাবিচার দিবসের চিন্তায় তার কর্মকে সমর্পিত করে, তখন) সে পরিত্রাণের পথে এগিয়ে যায় অথবা (যখন প্রবৃত্তির দাসত্ব করতে যায়, তখন) সে নিজের সর্বনাশ ঘটায়।
—আবু মালেক আশয়ারী (রা); মুসলিম, নববী

৩.
আল্লাহ তোমার চেহারা বা ধনসম্পত্তির দিকে তাকাবেন না, তিনি দেখবেন তোমার অন্তর আর হিসাব নেবেন তোমার কর্মের।
—আবু হুরায়রা (রা); মুসলিম, ইবনে মাজাহ

Advertisements

৪.
আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্য ছাড়া যা-ই করো না কেন, তা পরিণামে ব্যর্থ হবে। তাই ‘বীর’ উপাধি পাওয়ার জন্যে যুদ্ধ কোরো না। ‘জ্ঞানী’ বলে স্বীকৃতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান বিতরণ কোরো না। ‘দাতা’ বলে পরিচিত হওয়ার জন্যে দান কোরো না। করলে মহাবিচার দিবসে তোমাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (তোমার বাহ্যিক কর্মকাণ্ড নয়, আল্লাহ দেখবেন তোমার অন্তর। কর্মফল পাবে নিয়ত বা অন্তর্গত অভিপ্রায় অনুসারেই।)
—আবু হুরায়রা (রা); মুসলিম

৫.
আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার জন্যে, পরিবারের ভরণপোষণের জন্যে, প্রতিবেশীদের সাহায্য করার জন্যে বৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জনের আন্তরিক চেষ্টা করো। মহাবিচার দিবসে তোমার চেহারা পূর্ণিমার মতো দীপ্যমান হবে। কিন্তু যদি তোমার অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য হয় পার্থিব ভোগবিলাস, শানশওকত প্রদর্শনী এবং মানুষের বাহবা পাওয়া—তবে মহাবিচার দিবসে তুমি প্রভুর রোষানলে ভস্মীভূত হবে।
—আবু হুরায়রা (রা); মেশকাত, বায়হাকি

৬.

মানুষকে দেখানোর জন্যে বা মানুষের বাহবা পাওয়ার জন্যে যে ভালো কাজ করবে, তার কোনো পুরস্কার মহাবিচার দিবসে আল্লাহ দেবেন না।
—উবাই ইবনে কাব (রা); আহমদ

৭.
যে নিজের দম্ভ প্রকাশ করার জন্যে কোনো সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাকে মহাবিচার দিবসে সবার সামনে লাঞ্ছিত করবেন। আর যে লোক-দেখানোর জন্যে কোনো ভালো কাজ করবে, আল্লাহ তাকে মুনাফেকের কাতারভুক্ত করবেন।
—জুন্দুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা); বোখারী, মুসলিম

৮.
সৎ কাজের নিয়ত করে কেউ তা করতে না পারলেও আল্লাহ তাকে একটি নেকি দেন। আর নিয়ত করার পর কাজটি সম্পন্ন করলে আল্লাহ তাকে ১০ থেকে ৭০০, এমনকি তার চেয়েও বেশি নেকি দেন। কিন্তু কেউ যদি খারাপ কিছু করার চিন্তা করে তা করা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে একটি নেকি দেন। আর যদি সে সেই খারাপ কাজটি করে ফেলে, তবে তার নামে একটি গুনাহ লিপিবদ্ধ করেন।
—আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা); বোখারী, মুসলিম

৯.
গুণাবলিকে বিকশিত করে যে মহৎ হতে চায়, আল্লাহ তাকে মহৎ করেন। আর যে ভোগ্যপণ্য ও ধনসম্পদ চায়, আল্লাহ তাকে তা-ই দেন।
—আবু হুরায়রা (রা); বোখারী

১০.
মানুষের উত্থান হবে তাদের নিয়ত অনুসারে।
—আবু হুরায়রা (রা), জাবির (রা); ইবনে মাজাহ

দৃষ্টিভঙ্গি

১১.
যে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করবে, আল্লাহ তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বদলে দেবেন।
—আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা); হাকেম

১২.
ভালো সময়ে আল্লাহকে স্মরণ করো, তাহলে দুর্দিনে তিনি তোমাকে দেখবেন। জেনে রাখো, যা তুমি পাও নি তা তোমার নয়। যা তোমাকে ভুল পথে নিয়ে যায়, তা কখনো তোমাকে সত্যে পৌঁছাবে না। আর যা তোমাকে ভালো কাজে সাহায্য করে, তা কখনো বিভ্রান্তির পথে নেবে না। মনে রেখো, অবিচল বিশ্বাস ও নিরলস পরিশ্রমই আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্তির পথ। দুঃখকষ্ট, সংগ্রামের পথেই আসে সমৃদ্ধি।  আর দুঃসময়ের পরেই আসে সুসময়, প্রতিটি দুঃখের সাথেই সুপ্ত আছে সুখ।
—আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা); নাসাঈ, রিয়াদুস সালেহীন

১৩.
কঠোর পরিশ্রমই উত্তম পুরস্কার আনে। আল্লাহ যখন কারো মঙ্গল চান, তখন তাকে পরীক্ষায় ফেলেন। যে ব্যক্তি ইতিবাচকভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন (সে বিজয়ী হয়)। আর যে বিরক্তি ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন (সে ব্যর্থ হয়)।
—আনাস ইবনে মালেক (রা); তিরমিজী, ইবনে মাজাহ

১৪.
আল্লাহ যখন কাউকে অনুগ্রহ-সম্পদ দিতে চান, তখন তাকে পার্থিব বিপদ-আপদ প্রতিকূলতার মুখোমুখি ঠেলে দেন।
—আবু হুরায়রা (রা); বোখারী

১৫.
কখনো মনে করবে না যে, কাজটি আমি পারব না। যে কাজ তোমার জন্যে কল্যাণকর, তা পূর্ণোদ্যমে করো এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো।
—আবু হুরায়রা (রা); মুসলিম

১৬.
সাধারণ বিশ্বাসীর চেয়ে অটল বিশ্বাসীকে আল্লাহ বেশি পছন্দ করেন। প্রতিটি কল্যাণকর কাজে সাহস করে ঝাঁপিয়ে পড়ো। আল্লাহর কাছে তা চাও এবং পাওয়ার জন্যে বিরামহীনভাবে লেগে থাকো। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। কখনো হাল ছেড়ে দিও না। কোনো বিপদ-মুসিবত এলে কখনো বোলো না যে, ‘যদি এটা না করতাম তাহলে এ বিপদ হতো না’। কারণ এই ‘যদি’ শব্দটি বিভ্রান্তির দরজা খুলে দেয়। বরং বলো, ‘আল্লাহ যা নির্ধারিত করেছেন, তা-ই হয়েছে’। (আর ভবিষ্যতে কী করতে পারো, তার পরিকল্পনা করো।)
—আবু হুরায়রা (রা); মুসলিম, ইবনে মাজাহ

১৭.
যারা বিপদ-আপদ-পরীক্ষাকে দুর্ভাগ্য মনে করে, যারা সহজে কাজ হয়ে যাওয়াকে সৌভাগ্য মনে করে, তারা কখনো সম্মানিত অগ্রগামী বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।
—আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা); তাবারানী

১৮.
বিবেক দংশিত হয় এমন কিছু কোরো না।
—হাসান ইবনে আলী (রা); মেশকাত

১৯.
ঘাত-প্রতিঘাতে না পড়লে সহনশীল হওয়া যায় না, অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রাজ্ঞ হওয়া যায় না।
—আবু সাঈদ খুদরী (রা); তিরমিজী, বোখারী

২০.
বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে প্রবৃত্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আখেরাতের জন্যে কাজ করে। আর নির্বোধ সেই ব্যক্তি, যে প্রবৃত্তির দাসত্ব করে এবং প্রত্যাশা করে যে, তার খায়েশ আল্লাহ পূরণ করে দেবেন আর পরকালে সে কোনো না কোনোভাবে পার পেয়ে যাবে।
—শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা); তিরমিজী

২১.
একজন মানুষ বহু বছর সৎকর্ম করার পর পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়তে পারে। আর পাপাচারী হিসেবেই মৃত্যুবরণ করতে পারে। আবার একজন বহু বছর পাপাচারে লিপ্ত থাকার পর সৎকর্মে একাত্ম হতে পারে এবং সৎকর্মশীল হিসেবে মৃত্যুবরণ করতে পারে।
—আবু হুরায়রা (রা); মুসলিম

২২.
আলস্য ও কর্মবিমুখতা যাকে পিছিয়ে দেয়, সৎকর্মে যে পিছিয়ে পড়ে, বংশপরিচয় তাকে কখনো এগিয়ে দেবে না।
—আবু হুরায়রা (রা); মুসলিম

২৩.
ধীরস্থিরভাবে কাজ করো। সহনশীল হও। মানুষের মাঝে এই দুটি গুণকে আল্লাহ বেশি পছন্দ করেন।
—আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা); তিরমিজী, মুসলিম

২৪.
অন্যের বিপদে আনন্দিত হয়ো না। কারণ আল্লাহ তাকে বিপদ থেকে রেহাই দিয়ে সে বিপদ তোমার ওপর আপতিত করতে পারেন।
—ওয়াসিলা ইবনে আল আসকা (রা); তিরমিজী

২৫.
তোমরা মানুষকে আশার বাণী শোনাবে। নিরাশার কথা বলে তাদের হতাশ করে দেবে না। উদারতা প্রদর্শন করবে। রূঢ় আচরণ করবে না।
—আবু মুসা আশয়ারী (রা); বোখারী, মুসলিম

২৬.
আল্লাহকে স্মরণ করো। তিনি তোমাকে স্মরণ করবেন। আল্লাহর সাহায্যের কথা সবসময় উল্লেখ করো, তাঁকে তুমি পাশেই পাবে। তোমার যা প্রয়োজন শুধু তাঁর কাছেই চাও। যখনই বিপন্ন বোধ করো তাঁর কাছেই বিপদ-মুক্তির আবেদন জানাও। সকল মানুষ একত্র হয়ে সাহায্য করতে চাইলেও তারা তা করতে পারবে না। তুমি শুধু ততটুকুই পাবে, যা তিনি নির্ধারিত করেছেন। একইভাবে সবাই মিলে তোমার ক্ষতি করতে চাইলেও তারা কিছুই করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ ইতোমধ্যেই সে নির্দেশ দিয়ে থাকেন।
—আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা); মেশকাত, নববী

২৭.
শারীরিক এবং আর্থিক বিপদ ও ক্ষয়ক্ষতিতে নিমজ্জিত হয়েও যদি কেউ (আল্লাহর বিরুদ্ধে) অভিযোগ না করে (বিশ্বাসে অটল থাকে), তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতের অধিবাসী করবেন।
—তাবারানী

২৮.
মানুষকে ভালো ভাবা সঠিক ইবাদতের অংশ।
—আবু হুরায়রা (রা); আবু দাউদ

২৯.
মানুষকে তার সুনামের যোগ্য মর্যাদা দেবে।
—আয়েশা (রা); মেশকাত

৩০.
কয়েকজন সাহাবী সফর শেষে নবীজীর (স) কাছে তাদের একজন সাথির প্রশংসা করে বললেন, তার মতো ভালো মানুষ আমরা আর দেখি নি। তিনি সফরের মধ্যে সবসময় তেলাওয়াত করেছেন, যেখানে নেমেছেন, সেখানেই নামাজ আদায় করেছেন। নবীজী (স) তখন জিজ্ঞেস করলেন, তার প্রয়োজনীয় কাজকর্ম কে করেছে? তাকে বহনকারী পশুটিকে খাওয়ানো ও যত্নের ব্যবস্থা কে করেছে? তারা জবাব দিলেন, আমরাই তার প্রয়োজনীয় সব কাজ করে দিয়েছি। তখন নবীজী (স) বললেন, তোমরা সকলেই তার চেয়ে ভালো মানুষ।
—কালাবা (রা); আবু দাউদ

৩১.
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো, কিন্তু তোমার উটটাকেও বেঁধে রাখো ভালোভাবে। (অর্থাৎ সতর্কতা ও করণীয় কর্তব্যে অবহেলা করবে না।)
—আনাস ইবনে মালেক (রা); তিরমিজী

৩২.
সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখ তুমি ঘরে নিরাপদে আছ, শরীর সুস্থ আছে, ঘরে সারাদিনের খাবার আছে, তাহলে ধরে নাও পৃথিবীর সবই তোমার আছে!
—ওবায়দুল্লাহ ইবনে মিহসান (রা); তিরমিজী, মুফরাদ (বোখারী)

৩৩.
তোমার দায়িত্ব ও তোমার কর্মের জন্যে তোমাকেই জবাবদিহি করতে হবে।
—আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা); বোখারী

৩৪.
যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে যত্নশীল হয়, আল্লাহ তার মানবীয় পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপারে যত্ন নেন।
—আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা); হাকেম

৩৫.
যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তুমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখো। যে তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে, তাকে তুমি দান করো। যে তোমার ওপর অন্যায় করেছে, তাকে তুমি ক্ষমা করো। এটাই সুন্দর চরিত্রের প্রকাশ।
—উকবা ইবনে আমর (রা); বায়হাকি

৩৬.
ঝগড়া-বিবাদ ধর্মপরায়ণতার বিনাশ ঘটায়। ভুল বোঝাবুঝি ও ঝগড়া-বিবাদ দূর করে শান্তি স্থাপন করা নামাজ, রোজা ও সাদাকার চেয়ে উত্তম কাজ।
—আবু দারদা (রা); আবু দাউদ, তিরমিজী

৩৭.
তোমরা পিতামাতার খেদমত করো। তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের খেদমত করবে। নিজেরা অশালীন কাজ থেকে বিরত থাকো। তোমাদের স্ত্রীদের চরিত্র আল্লাহ হেফাজত করবেন।
—ওমর ইবনে খাত্তাব (রা); তাবারানী

৩৮.
(জনজীবনে হোক বা ব্যক্তিগত জীবনে) সবসময় আল্লাহ-সচেতন থেকো। (তোমার আচরণে যেন তোমার ধর্মপরায়ণতার প্রকাশ ঘটে।) কোনো ভুল করে ফেললে সাথে সাথে একটি ভালো কাজ করো। ভালো কাজ মন্দ কাজকে ধুয়ে-মুছে নিয়ে যাবে। মানুষের সাথে সদাচরণ করো। (তোমার সদাচরণ তোমার দোষত্রুটি মার্জনায় সহায়ক হবে।)
—আবু যর গিফারী (রা); আহমদ, তিরমিজী

৩৯.
তোমরা অবশ্যই মানুষকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করবে, অন্যায় করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করবে। তা না হলে আল্লাহ তোমাদের ওপর আজাব আপতিত করবেন অথবা সবচেয়ে পাপী ও জালেমদের তোমাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করবেন। তোমাদের কোনো দোয়াই তখন কবুল হবে না।
—হুজাইফা ইবনে ইয়ামন (রা); আহমদ

৪০.
সৎ-অসৎ নির্বিশেষে সবার সাথেই সদাচরণ করো। কেউ খারাপ ব্যবহার করলে তার সাথে ভালো ব্যবহার করো। কারো ভালো আচরণের পরিবর্তে তোমার ভালো আচরণ দুজনকেই সমমর্যাদা দেয়। তুমি তখন ব্যতিক্রমী কিছু করছ না। তুমি অনন্য হবে তখন, যখন অন্যের মন্দ আচরণের জবাবে তুমি ভালো আচরণ করবে। কেউ গালি দিলে তুমি তার জন্যে দোয়া করবে।
—মুফরাদ (বোখারী)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x